আজই ফাইনাল নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে আয়ারল্যান্ডের তিন জাতি টুর্নামেন্টে শুরুটা দারুণ হয়েছিল বাংলাদেশের। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়েছে বৃষ্টিবাধায়। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আজ ফিরতি ম্যাচটি জিতেই ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলতে চায় মাশরাফি বিন মুর্তজার দল

নিজের প্রিয় ব্যাটের গোলাপি গ্রিপের হাতলটায় ভর দিয়ে দাঁড়ালেন। পা-জোড়া আড়াআড়ি করে রাখা। মুশফিকুর রহিমের অলস অপেক্ষা। নেটে সৌম্য সরকার জমিয়ে ব্যাট করছেন। তাঁর ডাক কখন আসবে কে জানে! অপেক্ষা করার চেয়ে হালকা নক শুরু করে দেওয়াই ভালো। ঢাকা থেকে আসা বিসিবির এক কর্মীকে নিয়েই শুরু করে দিলেন অনুশীলন। ঠিক কোন উচ্চতায় বলগুলো চাইছেন, বুঝিয়ে-পড়িয়ে দিতে হলো বারবার। তাতেও সই। ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাওয়াটাই হয়ে গেছে চ্যালেঞ্জ। নেটে কিংবা ম্যাচে!

আজ নিশ্চিত হয়ে যেতে পারে ১৭ মের ফাইনালেও বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের পুনরাবৃত্তি হবে কি না। বোনাস পয়েন্ট ছাড়া জিতলেও বাংলাদেশের পয়েন্ট হবে ১০। সবচেয়ে বাজে ফল ধরে নিয়ে শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে বোনাসসহ হারাতে পারলেও আয়ারল্যান্ডের পয়েন্ট হবে ৭। আসলে গাণিতিক হিসাবে বাংলাদেশ শেষ দুটি ম্যাচ হারলেও ফাইনালে খেলার সম্ভাবনার মধ্যে থাকবে। যেমন এই ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেলেও বাংলাদেশের ফাইনাল নিশ্চিত। কিন্তু সেই হিসাবে বাংলাদেশ দল যেতেই চায় না।

বাংলাদেশ আজ ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলতে চাইবে আরও একটি কারণে। দুই দিন পরের ম্যাচটাকে তাহলে রিজার্ভ বেঞ্চ বাজিয়ে দেখার সুযোগ হিসেবে নিতে পারবেন কোচ। মালাহাইডেই আগের ম্যাচটা বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় স্টিভ রোডসের পরিকল্পনায় গড়বড় হয়ে গেছে। ওই ম্যাচ জিতলে শেষ দুই ম্যাচে একাদশ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন বলে ভেবে রেখেছিলেন। আপাতত বাংলাদেশের জন্য ফাইনাল নিশ্চিত করা জরুরি বলে সেরা একাদশ নামানোর পক্ষে টিম ম্যানেজমেন্ট।

প্রথম ম্যাচে মাশরাফির সঙ্গী হিসেবে বোলিং আক্রমণের উদ্বোধন করতে এসে দারুণ করেছেন সাইফউদ্দিন। গত প্রিমিয়ার লিগে বল হাতে পারফরম্যান্স ১১ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো প্রথম ওভার করার দায়িত্ব পেতে ভূমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ম্যাচ পরিস্থিতিতে খুব বেশি ব্যাট করার সুযোগ পাননি। দুই ওপেনার মিলে প্রথম ম্যাচে খেলেছেন ১৮৪ বল। তবে ব্যাটিং না পাওয়াদের একজন মোহাম্মদ মিঠুন অবশ্য কাল বলে গেলেন, নিজেদের ব্যাটিং পাওয়া না-পাওয়ার চেয়ে দলের জয়টাই জরুরি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানদের ফর্মও বাংলাদেশের জন্য দুশ্চিন্তার। টুর্নামেন্টের সেরা তিন ব্যাটসম্যানই ব্র্যাডম্যানীয় গড়ে রান করে চলেছেন। ভিভ রিচার্ডসের রেকর্ড ভেঙে দ্রুততম ২ হাজারের মাইলফলক ছোঁয়া শাই হোপ তিন ম্যাচে করেছেন ৩০৯ রান। গত ম্যাচে ৩২৮ রানের বিশাল লক্ষ্যটা যে ক্যারিবীয়রা অনায়াসে পেরোল, তার মূলে সুনীল আমব্রিসের ১৪৮ রানের ইনিংস। সিরিজে তাঁর গড় ৯৩। চোটের কারণে ছিটকে যাওয়ার আগে এক ইনিংস খেলেছেন বলে জন ক্যাম্পবেলের গড় ১৭৯! তিন ওয়ানডেতে চারটি সেঞ্চুরি এসেছে ক্যারিবীয়দের ব্যাটে। এর মধ্যে হোপ তো বাংলাদেশকে পেলেই সেঞ্চুরির ইনিংস খেলা নিয়ম করে ফেলেছেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ তিন ইনিংস-১৪৬*, ১০৮*, ১০৯।

ক্রিকেট শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের মোড়কে দলীয় খেলাই। ব্যক্তিগত দ্বৈরথে হোপ জিতে গেলে কী হবে, দল হিসেবে বাংলাদেশ এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সব সময়ই ফেবারিট। সর্বশেষ ৬ ম্যাচের চারটিই জিতেছে বাংলাদেশ, যার মধ্যে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাদেরই মাঠে ২-১-এ সিরিজ হারিয়ে আসা। শুধু সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলে নয়, বাংলাদেশের এগিয়ে থাকা গত এক দশকের হিসাবেও। ২০০৯ সালের সেই আলোচিত সিরিজ থেকে ধরলে মুখোমুখি লড়াইয়ে বাংলাদেশ ১২-১০-এ এগিয়ে আছে।

তবে মিঠুনই মনে করিয়ে দিলেন, ক্রিকেটের ফলটা নির্ধারিত হয় ওই দিনের খেলায়, অতীত পরিসংখ্যানে নয়। মালাহাইডের উইকেটে আগামীকালও ছয় শর বেশি রানের এক ম্যাচ দেখা যেতে পারে—এটিও তাঁরই পূর্বানুমান। এবং সেটির জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত—বেশ প্রত্যয়ী শোনাল মিঠুনের কণ্ঠ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Pin It on Pinterest

সংস্করণ