তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মূল্যায়ন পদ্ধতি চূড়ান্তে কমিটি

প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিশুদের পরীক্ষা উঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব শ্রেণিতে শিশুদের মূল্যায়নের পদ্ধতি এখন কী হবে, সেটি চূড়ান্ত করতে সুপারিশ দেওয়ার জন্য ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ কমিটির সুপারিশ পাওয়ার পর চূড়ান্ত করা হবে মূল্যায়ন পদ্ধতি। এরপর পরীক্ষা উঠিয়ে দেওয়া হবে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এ কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভা থেকে গঠন করা হয় এ কমিটি।

সভায় আলোচকরা বলেন, পরীক্ষার বদলে নতুন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের শোনা, বলা, পড়া ও লেখা-এমন চারটি বিষয়ের ওপর মূল্যায়ন করে পরবর্তী ক্লাসে উন্নীত করা যেতে পারে। এমন ধারাবাহিক মূল্যায়ন কার্যক্রম ২০২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে শুরু করা যায় বলে অভিমত দেন অনেকে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম আল হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমীর (নেপ) মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) মহাপরিচালকসহ মন্ত্রণালয়ের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরীক্ষার পরিবর্তে ক্লাসে কীভাবে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে, এনসিটিবি’র প্রণয়ন করা এমন একটি প্রস্তাবনা নিয়ে সভায় আলোচনা করা হয়। সেখানে উপস্থিত কর্মকর্তারা নিজ নিজ মতামত প্রদান করেন।

সভা শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জি এম হাসিবুল আলমকে প্রধান করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) মহাপরিচালক, প্রাথমিকের ঢাকা অঞ্চলের উপ-পরিচালক, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা রয়েছেন। এনসিটিবি’র তৈরি করা প্রস্তাবনাটি মূল্যায়ণ ও প্রয়োজনে তা পরিবর্তন করে এ কমিটিকে পরবর্তী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন বুধবার সভা শেষে বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোন পদ্ধতিতে ক্লাসে মূল্যায়ণ করা হবে, সে বিষয়ে দীর্ঘ সভা হয়েছে। এ সভায় সংশ্লিষ্ট সব দফতর ও সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। এনসিটিবি’র প্রণয়ন করা একটি মূল্যায়ন প্রস্তাবনা নিয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে।’

সচিব বলেন, আমরা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে একটা কমিটি গঠন করেছি। তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জেলা পর্যায়ের শিক্ষকদের নিয়ে কর্মশালা করা হবে। এরপর জাতীয় পর্যায়ে একটি সেমিনার করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়া হবে। পাশাপাশি তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা তুলে দিয়ে ক্লাস মূল্যায়ণ বিষয়ে শিক্ষাবিদের মতামত নেওয়া হবে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ক্লাস মূল্যায়ন কার্যকর করা হবে বলেও জানান তিনি।

সচিব জানান, তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা তুলে দিলেও চতুর্থ শ্রেণির চূড়ান্ত পরীক্ষা এবং প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা চলবে।

বাংলাদেশের ৬৫ হাজার ৫৯৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয় না, প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি থেকে এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।

শিশুর ওপর থেকে পরীক্ষার চাপ কমাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির সব পরীক্ষা তুলে দিতে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেন। অতিরিক্ত চাপে লেখাপড়া নিয়ে শিশুদের মধ্যে যেন ভীতি তৈরি না হয় সেজন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের নজর দিতে গত ১৩ মার্চ এক অনুষ্ঠানে অনুরোধ রাখেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারি প্রাথমিকে ২০১৪ সাল থেকে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি চালু করা হয়। প্রাক-প্রাথমিকের প্রথম ব্যাচে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা ২০১৮ সালের প্রাথমিক সমাপনীতে অংশ নিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Pin It on Pinterest

সংস্করণ