বাংলাদেশ সবার আগে সেমিফাইনালে

মেয়েদের সাফের প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ২-০ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশ নিশ্চিত করেছে সেমিফাইনাল। ১টি করে গোল করেছেন মিশরাত জাহান মৌসুমী ও সাবিনা খাতুন।

মাঠের এক পাশে ছায়াঢাকা গ্যালারিতে বসে স্কুলের এক দল ছাত্র-ছাত্রী সারাক্ষণ ‘ভুটান ভুটান’ বলে গলা ফাটিয়েছে। স্থানীয় হাজার খানেক দর্শকও ভুটানি মেয়েদের সমর্থনে চিৎকার করেছে। কিন্তু বিরাটনগরের শহীদ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে দিন শেষে হেসেছে বাংলাদেশই। মেয়েদের সাফের প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ২-০ গোলে হারিয়ে নিশ্চিত করেছে সেমিফাইনাল। ১টি করে গোল করেছেন মিশরাত জাহান মৌসুমী ও সাবিনা খাতুন।

গ্রুপের প্রথম ম্যাচে নেপাল ৩-০ গোলে হারিয়েছিল ভুটানকে। আজ বাংলাদেশের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায় নিয়েছে ভুটান। আর এক ম্যাচ হাতে রেখেই বাংলাদেশ সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে। বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের পরের ম্যাচ ১৬ মার্চ, প্রতিপক্ষ নেপাল।

সাফের মতো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলতে নেপালে এসে একটা দিনও অনুশীলন করেনি ভুটান। এক হোটেল থেকে আরেক হোটেলে ঘুরেছে গত দুই দিন ধরে। আয়োজকেরা টিম হোটেলে রাখলেও ভুটানি ফুটবলারদের খাবার খেতে হয়েছে অন্য হোটেলে গিয়ে। সব মিলিয়ে বিপর্যস্ত এই দলটার বিপক্ষে জয়টা যেন অনুমিতই ছিল। তা ছাড়া সাফে এর আগের দুই বারের মুখোমুখিতেও জিতেছিল বাংলাদেশ। সাফল্যের শতভাগ রেকর্ড এবারও ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। কিন্তু পুরোপুরি রক্ষণাত্মক খেলা ভুটানের কাছ খেকে গোল বের করতে বেশ কষ্টই হয়েছে বাংলাদেশের। প্রথম গোলটির জন্য বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৪৬ মিনিট পর্যন্ত।

এই বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় সুবিধা, বয়সভিত্তিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে টানা খেলছে। অনূর্ধ্ব-১৬ দলের এই মেয়েরাই আবার জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করছে। দলের অন্যতম ফরোয়ার্ড কৃষ্ণা রানী সরকার অনুশীলনে চোট পাওয়ায় দর্শক হয়ে সাইড বেঞ্চে বসে ছিলেন। কিন্তু সেই অভাবটা বুঝতে দেননি সিরাত জাহান স্বপ্না, সাবিনা খাতুনেরা। যদিও বেশ কয়েকটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করেছেন স্বপ্না ও সাবিনা। মাঝ মাঠে মণিকা দুর্দান্ত খেললেও মারিয়া মান্দা যেন সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি।

অভিজ্ঞতা আর ফিটনেসে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের মেয়েরা বল দখলে অবশ্য সারাক্ষণ এগিয়েই ছিল। কিন্তু বারবার অ্যাটাকিং থার্ডে গিয়ে খেই হারিয়েছেন স্বপ্না, সাবিনা। ম্যাচের ১৩ মিনিটে আঁখির লম্বা বল ধরে বক্সে ঢোকেন স্বপ্না, ওই সময় ভুটানের গোলরক্ষক সঙ্গীতা মঙ্গার এগিয়ে আসেন। কিন্তু স্বপ্না বল মারেন বাইরে। ২৪ মিনিটে স্বপ্নার দুর্বল শট ধরে ফেলেন ভুটানের গোলরক্ষক। আর ৩০ মিনিটে মারিয়া মান্দার কর্ণার থেকে উড়ে আসা বলে শুধু পা ছোঁয়ালেই চলত, কিন্তু পারেননি স্বপ্না।

অবশেষে ৪৬ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ। মণিকা চাকমার কর্ণার থেকে জটলায় দাঁড়ানো মৌসুমীর আলতো টোকায় ১-০ করে বাংলাদেশ। ৬৮ মিনিটে সানজিদাকে তুলে কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন মাঠে নামান তহুরাকে। ম্যাচের গতিও বেড়েছে তখন। অবশ্য নেমেই গোলের সুযোগ নষ্ট করেন ময়মনসিংহের কিশোরী। এরপর ৮১ মিনিটেও দারুণ সুযোগ পান স্বপ্না। কিন্তু ফাঁকা পোস্টে বল তুলে দেন ভুটানের গোলরক্ষকের হাতে। ৮৬ মিনিটে বাম প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে বক্সে ঢোকেন সাবিনা। ভুটান গোলরক্ষক জায়গা ছেড়ে অনেকখানি এগিয়ে আসেন, সুযোগে কোনাকুনি শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সাবিনা। ম্যাচের শেষ মিনিটে আরেকটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করেছেন তহুরা।

বাংলাদেশ দল: রুপনা , শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার, আঁখি, মাসুরা, মনিকা , সানজিদা (তহুরা), মৌসুমী, স্বপ্না, সাবিনা ও মারিয়া।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Pin It on Pinterest

সংস্করণ