সাইবার অপরাধীদের হাত থেকে বাঁচার ৫ উপায়

ইন্টারনেটের ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে সাইবার ক্রাইমের পরিমাণও বাড়ছে। সাইবার ক্রিমিনালরা বিভিন্নভাবে ফাঁদ পেতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য এবং অর্থ চুরি করার চেষ্টা করে চলেছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই সফলও হচ্ছে। কিছু কিছু বড় হ্যাকিংয়ের ঘটনা বাদ দিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শুধুমাত্র সামান্য খেয়ালের ভুলে কিংবা অসতর্কতার কারণে এসব ঘটনা ঘটছে। তাই দরকার কিছু সতর্কতা অবলম্বনের।

মোবাইল ডিভাইস ব্যবহারে অসতর্কতা

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় ডেস্কটপ এবং ল্যাপটপ ব্যবহারকারীরা সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে যতটা চিন্তিত এবং সতর্ক থাকেন মোবাইল ডিভাইস ব্যবহারের ক্ষেত্রে ততখানি সতর্ক থাকেন না। বর্তমানে গ্রাহকরা বিভিন্ন গেমিং কনসোল, ট্যাবলেট এবং স্মার্টফোনে ইন্টারনেট সংযুক্ত থাকেন। কিন্তু নিরাপত্তার ব্যাপারে একেবারেই অমনোযোগী থাকেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা অবিশ্বস্ত সাইট এবং অনিরাপদ থার্ড পার্টি অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করেন। একারণেই মোবাইল ডিভাইস ব্যবহারকারীরা সাইবার ক্রিমিনালদের টার্গেটে পরিণত হন। এতে ব্যক্তিগত তথ্য খুব সহজেই হ্যাক ও চুরি হয়ে থাকে।

জুয়ার ওয়েবসাইট

অনলাইনে জুয়ার খেলার অনেক ধরনের সাইট রয়েছে। এসব সাইটগুলোতে ইউজাররা বেশ আনন্দ উপভোগ করে থাকেন। কিন্তু এসব সাইট সাইবার ক্রাইমের জন্য অন্যতম ঝুঁকিসম্পন্ন স্থান। ইউজাররা যত বেশি বিঙ্গো, অনলাইন পোকার, বেটিং এবং স্পোর্টসবুক সাইটগুলোতে প্রবেশ করেন, সাইবার ক্রিমিনালরা ততই সেসব ইউজারদের তাদের বিভিন্ন ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে। সাইবার ক্রিমিনালরা অনলাইন গ্যাম্বলিং ব্যবহার করে ইউজারদের সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, ক্রেডিট কার্ডের তথ্য, নাম এবং ঠিকানা চুরি করে থাকে।

ভূয়া ব্যবসা ও আকর্ষণীয় চাকরির অফার

যারা অনলাইনে কাজ করতে আগ্রহী তাদের জন্য ভয়াবহ হুমকি হতে পারে বিজনেস এবং এমপ্লয়মেন্ট ফ্রড। এই সব ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায়, অনলাইনে কাজ করতে আগ্রহীদের তাদের ব্যক্তিগত অনেক তথ্য ইমেইলে পাঠাতে বলা হয়। এই ধরনের তথ্যগুলো হাতে পাওয়ার পর প্রতারক শ্রেণী এমন বলে যে, তাদের অর্জিত অর্থসমূহ চেকের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। অতপর প্রতারকচক্র কাজের আবেদনকারীদের ভূয়া চেক পাঠায় এবং ধারাবাহিকভাবে ওভার পেমেন্টের দোহাই দিয়ে নগদ অর্থ ফেরত পাঠানোর জন্য অনুরোধ করে। যখন আবেদনকারীরা অর্থ এবং ব্যক্তিগত তথ্যসমূহ প্রতারকদের হাতে দিয়ে দেন, তখন কতিপয় বিদেশি প্রতিষ্ঠান এবং কতিপয় সাইবার ক্রিমিনালদের ষোলকলা পূর্ণ হয়। তাই এই ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে হলে, কোন সাইটে কাজ শুরু করার আগে সেই সাইট সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজখবর নিতে হবে।

চ্যারিটি ওয়েবসাইট

ইনোসেন্ট ইন্টারনেট ইউজারদের ফাঁদে ফেলার আরেকটি উপায় হচ্ছে ভূয়া চ্যারিটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতারণা। এই ধরনের প্রতারণা করার জন্য তারা সাধারণত একটি ভূয়া সংগঠন চালু করে বিভিন্ন চ্যারিটেবল ফান্ডের নামে ডোনেশন আদায়ের জন্য। ভালো কোথাও অর্থ প্রদান করছে এমনটা ভেবে অনেক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সাইবার ক্রিমিনালদের হাতে নিজের অর্থ তুলে দেয়। এই প্রক্রিয়াটি সাইবার ক্রিমিনালদের জন্য খুবই সহজ। এসব ক্ষেত্রে টাকা ডোনেট করার পূর্বে সকল প্রকারের চ্যারিটি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভালোভাবে যাচাই বাছাই করে নিতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম

সাইবার ক্রিমিনালরা আপনার সামাজিক সাইটের প্রোফাইলে দেওয়া তথ্যসমূহ ব্যবহার করে আপনাকে টার্গেট করতে পারে। তারা আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে আপনার বিভিন্ন পাসওয়ার্ড এবং আইডি চুরি করতে পারে। এই ধরনের সমস্যা প্রতিরোধ করতে সামাজিক সাইটগুলোতে যতখানি সম্ভব কম তথ্য সরবরাহ করা উচিত। কেবল বিশ্বস্ত মানুষদের জন্য ব্যক্তিগত তথ্যের অ্যাকসেস রাখা উচিত এবং সংশ্লিষ্ট সামাজিক সাইটের প্রাইভেসি পলিসি সম্পর্কে সতর্ক থাকা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Pin It on Pinterest

সংস্করণ