শিক্ষা খাতকে যুগোপযোগী করতে সংস্কার জরুরি

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম বলেছেন, যুগের চাহিদা ও শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে শিক্ষা খাতকে যুগোপযোগী করতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। দেশের প্রকৌশল, চিকিৎসা ও কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনেক আগেই শিক্ষার্থীদের সিলেবাস পরিবর্তন করা জরুরি ছিল। গত শনিবার বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার ফাঁদে ফেলে শিক্ষার্থীদের গিনিপিগ তৈরি করা হচ্ছে। ড. কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের সুপারিশমালা অনুযায়ী একমুখী প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করলে এখন এ পরিস্থিতি তৈরি হতো না। আজকে যে ছেলেটি স্কুলে ভর্তি হচ্ছে সে ২০-২৫ বছর পরে চাকরির বাজারে প্রবেশ করবে। তাই সে সময়ে চাকরির চাহিদার বিষয়টি বিবেচনা করার মতো দূরদর্শিতা থাকতে হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে সাবেক এই শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, হাতে গোনা কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বাদে অন্য সবার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। সেখানে টাকার বিনিময়ে চলছে সার্টিফিকেট ব্যবসা। এখান থেকে ডিগ্রিধারী উচ্চ শিক্ষিতরা চাকরির বাজারে কোনো কাজেই লাগছে না। ভিত্তি দুর্বল থাকায় তাদের এই শিক্ষা সার্টিফিকেটেই সীমাবদ্ধ থাকছে। একটা-দুইটা বিষয়ে সংস্কার করলে হবে না। বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সবগুলো বিষয় নিয়ে জরিপ করতে হবে। এরপর গবেষণার ভিত্তিতে কোথায় কী প্রয়োজন তার ব্যবস্থা করতে হবে। এর আগের মেয়াদে শিক্ষা খাতে বই উৎসব ছাড়া তেমন কোনো সংস্কার চোখে পড়েনি। এরকম একটা বিষয় নিয়ে না ভেবে পুরো শিক্ষা খাতের আধুনিকায়ন নিয়ে ভাবতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Pin It on Pinterest

সংস্করণ