‘আমি না থাকলেও কেন্দ্র যেন নিজস্ব গতিতে এগোতে পারে’

আমাদের কালের বাতিঘর আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ৪০ বছর পূর্তিতে তাঁর মুখোমুখি হয়ে জানা গেল তাঁর স্বপ্ন ও বাস্তবতার গল্প। ‘মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়’—কথাটিকে বাস্তবে পরিণত করেছেন তিনি, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। একদা তাঁর হাতে গড়ে উঠেছিল ছোট্ট যে পাঠচক্র, দিনে দিনে সেটিই হয়ে উঠেছে আজকের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। এ প্রতিষ্ঠানের ৪০ বছর পূর্তিতে তিনি শুনিয়েছেন কোন স্বপ্নে বিভোর হয়ে একসময় শুরু করেছিলেন এই কার্যক্রম। জানিয়েছেন তাঁর অনুপস্থিতিতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আলতাফ শাহনেওয়াজ

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ৪০ বছর পূর্ণ হয়েছে। আর আজ আপনারা পালন করছেন ৪০ বছর পূর্তি উৎসব। পেছন ফিরে তাকালে এই দীর্ঘ যাত্রাকে কেমন মনে হয়?

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ: পেছনে তাকালে একটা দীর্ঘ সময়ের পেরিয়ে আসা দেখতে পাই। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র নিয়ে শুরুতে আমার তেমন কোনো সাংগঠনিক ভাবনা ছিল না। শুরুতে মনেই হয়নি যে এটা একদিন একটি প্রতিষ্ঠান হবে—এত মানুষ উৎকর্ষ–পিপাসা নিয়ে এখানে আসতে চাইবে। সাধারণ আর দশটা পাঠচক্রের ধাঁচে আমি এটা শুরু করেছিলাম। ১৯৭৮ সালে। তবে আমার একটা ব্যক্তিগত সমস্যা আছে, কোনো কিছুই ছোট পরিসরে আমি চিন্তা করতে পারি না। তাই পাঠচক্রটির সাফল্যের পর মনে হতে লাগল পাঠচক্রটি ছড়িয়ে পড়ুক সারা দেশে। সেই সময় আমাদের জাতির মধ্যে অজ্ঞতার যে দুঃখময় চিত্র দেখেছিলাম, সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল এ স্বপ্ন। তখন মনে হয়েছিল, আমাদের জাতির ভেতর জ্ঞান চাই, আলো চাই। গোটা পৃথিবীর উন্নত সভ্যতার সমতালে আমাদেরও একই রকম মননের বিকাশ চাই। বড় দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন উদার মানবিক ও কার্যকর মানুষ চাই, যারা অর্থপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়ে এ জাতিকে সম্পন্নতার দিকে এগিয়ে নিতে পারবে।

প্রথমে মাত্র ১০ জন সভ্য নিয়ে শুরু হয় এর পথচলা। পরে এই সংখ্যা ২৫–এ ওঠে। তারা সবাই তখন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ছাত্র। আমার এই কাজের পুরোটাই ছিল পরীক্ষামূলক। আমি নিশ্চিতভাবে জানতে চাচ্ছিলাম, বই মানুষকে বড় করে বলে যে কথাটা মানবসমাজে চালু আছে, তা আসলে কতটা সত্য। এই ব্যাচে পাঠচক্রের সভ্য ছিল মিজারুল কায়েস, শাহ আলম সারওয়ার, লিয়াকত আলী, মিজান, বাতেন, এনামুল হক চৌধুরী বা জাকারিয়ার মতো অন্তত ২০ জন মেধাবী ও উদ্যমী ছাত্রছাত্রী। পরবর্তী সময়ে তাদের অধিকাংশই জীবনে নিজ নিজ ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত ও খ্যাতিমান হয়েছে। পাঠচক্রটি চলেছিল চার-পাঁচ বছর। সভ্যদের প্রায় সবার মধ্যে তখন যে অবিশ্বাস্য বিকাশ লক্ষ করেছিলাম, তা আমাকে প্রচণ্ডভাবে আশান্বিত করেছিল। মনে হয়েছিল বই জিনিসটা যখন মানুষকে স্বপ্নে, মূল্যবোধে, দৃষ্টিভঙ্গিতে এতখানি আলোকিত করে তুলতে পারে, তখন সারা দেশের সবখানে কেন এমন হাজার হাজার পাঠচক্র গড়ে তুলছি না; কেন দেশের কিশোর বা তরুণ ছেলেমেয়েদের পৃথিবীর সেরা আর কালজয়ী বইগুলো পড়িয়ে তাদের উচ্চায়ত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছি না?

মানুষের কিশোর বয়সের ওপর আমি সব সময়ই বেশি জোর দিই। এই বয়সে মানুষ থাকে সবচেয়ে অনুভূতিতে ভরা। সারা পৃথিবীকে নিজের ভেতর শোষণ করার ক্ষমতা এই সময়ে থাকে সবচেয়ে বেশি। তাই ৪০ বছর ধরে আমি মূলত কাজ করেছি কিশোর-তরুণদের নিয়ে। তাদের মন ও বয়সের উপযোগী শ্রেষ্ঠ ও সুন্দর বইগুলো পড়িয়ে এবং একটি সুস্মিত সাংস্কৃতিক জীবনের ভেতর লালন করে তাদের মধ্যে বড় জীবনের শক্তি ও স্বপ্ন জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।

যখন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কাজ শুরু করেন, এর আগে থেকেই আপনি টেলিভিশনের জনপ্রিয় উপস্থাপক। আর সেই সঙ্গে বিখ্যাত কণ্ঠস্বর পত্রিকার সফল সম্পাদকও। এই সাফল্যে ভরা জীবন ছেড়ে নতুন কোন প্রেরণা থেকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কাজ শুরু করেছিলেন?

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ: একটা ঘটনা আমাকে খুব বেশিমাত্রায় আলোড়িত করেছিল। ষাট ও সত্তর দশকের সাহিত্য আন্দোলন শেষ হওয়ার পর আমার মনে হয়েছিল যে ত্রিশের দশকে কলকাতায় যে তরুণ লেখকেরা সাহিত্য আন্দোলন করেছিলেন, দু-তিনজন বাদে তাঁদের আর আমাদের লেখকদের প্রতিভার মান ছিল প্রায় কাছাকাছি। তবু আমরা তাঁদের সমান সক্ষমতা অর্জন করতে পারিনি। জীবনবোধ, গভীরতা, দার্শনিকতা, বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি—এসব জায়গায় আমরা তাঁদের থেকে পিছিয়ে পড়েছিলাম। আমি এর কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে টের পেলাম, ষাটের দশকের আমাদের আন্দোলন যেখানে ছিল শুধু বাংলা সাহিত্যের পটভূমি থেকে জেগে ওঠা, সেখানে ত্রিশের দশকের কলকাতাকেন্দ্রিক সাহিত্য আন্দোলন ছিল বিশ্বসাহিত্যের পটভূমি থেকে জাগ্রত। তখন মনে হয়েছিল, তাঁদের উচ্চতর জ্ঞানের ভিত্তিই তাঁদের আমাদের ওপরে নিয়ে গেছে। স্বাধীনতার পরও আমার মনে হতে লাগল, জ্ঞানের দিক থেকে আমরা যেন ক্রমাগতভাবে আরও অতলে তলিয়ে যাচ্ছি। তখন মনে হলো, আমাদের জাতির জ্ঞান চাই। আমি নিজে সাহিত্যের মানুষ। সংগত কারণেই ভেবেছিলাম, সাহিত্যকে সম্পন্ন করে তুলতে পারলেই আমার দায়িত্ব শেষ হবে। পরে বুঝতে পেরেছি, এ একেবারেই সত্য নয়। শুধু সাহিত্য নয়, একটা জাতির জীবনের কোনো ক্ষেত্রকে জ্ঞানের জায়গায় নিঃস্ব রেখে সত্যিকার জাতীয় উন্নতি সম্ভব নয়। এমন ভাবনা থেকেই আমরা কেন্দ্রের আলোকায়ন চর্চায় সমস্ত জ্ঞানকে একীভূত করার উদ্যোগ নিই।

প্রায়ই আপনি বলেন, ‘মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়’—ছোট্ট একটি পাঠচক্র থেকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে উত্তরণের পর্বে পর্বে আপনার স্বপ্নগুলো কেমন ছিল?

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ: অনেকে স্বপ্নকে একটা অবাস্তব আলীক ব্যাপার বলে মনে করে। আসলে তা নয়। এ একটা ভারি বাস্তব জিনিস। স্বপ্নের আসল মানে হচ্ছে গন্তব্য। আমি কোথায় যেতে যাই, সেটাই আমার স্বপ্ন। আরও যদি বিশদ করে বলি, তবে বলব, কোনো স্বপ্ন পূরণের জন্য আমরা যে কাজ করি, যে স্বেদ-শ্রম দিই, তা–ই আমাদের স্বপ্ন। পাঠচক্রটি ছিল আমার পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময়। এখানে সাফল্য আসার পর মনে হলো, এবার আরও বৃহত্তর পরিমণ্ডলে কাজ করা যায়। এই ধারণা থেকে পাঠচক্রের কার্যক্রম আরও বড় করার সিদ্ধান্ত নিলাম। ১৯৮৩ সালের দিকে আমরা প্রায় সাড়ে তিন হাজার স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীকে নিয়ে একটা ছোটখাটো পরীক্ষা করলাম। আমার মনে তখন সারা দেশে কেন্দ্রের কার্যক্রমকে ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্ন। অনেকে সে সময় আমার এভাবে কর্মসূচি বড় করে তোলার উদ্যোগের সমালোচনা করেছে। বলেছে, এত বড় পরিসরে না করে অল্প কিছু শিক্ষার্থী নিয়ে ছোট পরিসরেই এসব কাজ করা ভালো।

আমি একটা উপমা দিয়ে তাদের সমালোচনার জবাব দিয়েছি। বলেছি, একটা এভারেস্ট শৃঙ্গ দাঁড় করিয়ে রাখতে দুই হাজার মাইলের হিমালয় পর্বতমালা দরকার। সারা দেশে এই কর্মসূচির ভিত্তি শক্তভাবে গড়ে না তুললে এর শীর্ষকে অর্থপূর্ণ করা যাবে না।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এবং আপনার সাফল্যের গল্প তো সবার জানা। তবে এই সফলতার আলোকময় দৃশ্যের বিপরীতে ৪০ বছরের পথচলায় ব্যর্থতা ও কষ্টের গল্পও নিশ্চয়ই আছে। সেসব গল্পের দু-একটি কি বলা যাবে?

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ: ব্যর্থতার কত যে গল্প আছে, বলে শেষ করা যাবে না। প্রথম দিকে যত স্কুলে বইপড়া কর্মসূচি চালু করতে গেছি, তার ৮০ ভাগেই ব্যর্থ হয়েছি। কখনো হয়তো কোনো হেডমাস্টারকে আপ্রাণ বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে আটকে রাখা ঠিক নয়, তাদের সুন্দর সুন্দর কল্পনাসমৃদ্ধ বই পড়তে দেওয়াও উচিত। তাঁকে উপমা দিয়ে বলেছি, এই যে আমাদের এই পৃথিবী—এ শক্ত মাটির হলেও এর ওপরে আছে এক বিশাল ফাঁকা আকাশ। আকাশটাকে মাটি দিয়ে ভরে দিলে আমাদের তো নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের জীবনের মধ্যেও অমনি একটা বড় ফাঁকা জায়গা দরকার। না হলে আমাদের সত্যিকার বিকাশ হবে না। কথা বলার সময় মনে হতো তিনি সব বুঝছেন, মাথা ঝুঁকিয়ে প্রতিটি কথায় সায় দিচ্ছেন। কিন্তু সব শোনার পর বলতেন, ‘এই সব বই পইড়া পড়া নষ্ট।’ হায় রে কপাল!

এভাবে কত স্কুল থেকে যে ফিরে এসেছি, তার ঠিক নেই। পরে অবশ্য সরকারের সহযোগিতায় তাদের অন্য কৌশলে বশে এনেছি।

আর কষ্ট-দুঃখ-দুর্ভোগের গল্প জানতে চাও? আমি একটানা ১০ বছর সারা দেশের ওপর দিয়ে ছুটে বেড়িয়েছি। এর পরের পাঁচ বছরে এর গতি কমে এসেছে। কত যে স্কুল–কলেজে গিয়েছি, ছাত্রদের উদ্দেশে বক্তৃতা করেছি, শিক্ষকদের বুঝিয়েছি, তার সীমা-সংখ্যা নেই। আর্থিক দিক থেকে কেন্দ্রের তখন ভারি দুর্দিন। শহর থেকে শহরে, গ্রাম থেকে গ্রামে ছুটতাম গাড়িতে করে। কেন্দ্রের গাড়ি। সবই সেকেন্ডহ্যান্ড। কখন থেমে যাবে তার ঠিকঠিকানা নেই। গাড়ি চালাতাম নিজেই। ড্রাইভার রাখতে বছরে যে টাকা লাগবে, তা দিয়ে দুই হাজার ছাত্রছাত্রীকে বইপড়া কর্মসূচিতে এনে উৎকর্ষের ব্যবস্থা করা যায়। ড্রাইভারকে বেতন দিতে গিয়ে এতগুলো ছেলেমেয়েকে বিকশিত জীবনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করতে মন সায় দিত না। রাস্তাঘাটে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ভয়ে সব সময় সঙ্গে পাকা কলা, পাউরুটি আর সেদ্ধ ডিম রাখতাম। দিনকে দিন এসব খেয়েই কাটিয়ে দিয়েছি।

এমন দুঃখের সময়েও যে মাঝেমধ্যে অনেক মজার ঘটনা ঘটত না, তা নয়। কেন্দ্রের কাজে একবার ঝিনাইদহে যাচ্ছিলাম। প্রচণ্ড শীতের রাত। রাত তিনটার দিকে ঝিনাইদহে গিয়ে নামলাম। বাস থেকে নামার আগে এক সদাশয় ভদ্রলোক বললেন, সাবধানে নামবেন। এলাকাটায় ডাকাত কিন্তু গিজগিজ করে। গাড়ি থেকে নেমে সামনে যে হোটেল পাবেন, সোজা তাতে ঢুকে পড়বেন। ভাগ্য ভালো, বাস থেকে নামতেই সামনে একটা ছোট্ট দোতলা জরাজীর্ণ হোটেল পেলাম। প্রায় দৌড়ে তার ভেতর ঢুকে পড়লাম। কিন্তু ঢুকে দেখলাম, ভাগ্য খারাপ। হোটেলের কোনো রুম ফাঁকা নেই। কিন্তু শীতের রাতে আমাদের কষ্ট দেখে হোটেলের লোকজনের মায়া হলো। তারা জানাল, তাদের একটা ঘরে গোটা কয়েক ছাগল আছে। আমাদের সমস্যা না থাকলে ওই ছাগলদের সঙ্গে রাতটা কাটাতে পারি। ঘরে ঢুকে দেখি, ছোট্ট ঘর, তাতে গোটা পঞ্চাশেক ছাগল। জিজ্ঞেস করলাম, এত গাদাগাদি করা ছাগল, আমরা থাকব কোথায়? শুনে লোকজন এমন ভাব করল, যার অর্থ: ইচ্ছা করলে থাকতে পারেন, ইচ্ছা না করলে…। শেষে ওই ছাগলদের কিছুটা ঠেলে সরিয়ে ঘরের এক কোণে বসে বাকি কয়েক ঘণ্টা ছাগলদের ডাকাডাকি, গায়ের আর প্রস্রাবের গন্ধ আর প্রাকৃতিক ক্রিয়াকর্মের মাঝখানে শেষ রাতটুকু কাটিয়ে দিলাম। এ রকম কত বিপদ যে পার করেছি এই ৪০ বছরে, গাড়ি দুর্ঘটনা হয়েছে দুবার। মেঘনা নদীতে ঝড়ের মধ্যে পড়ে প্রাণ হারানোর জো হয়েছে বার কয়েক।

৪০ বছরে বহুগুণে বেড়েছে কেন্দ্রের শাখা-প্রশাখা ও পরিসর। এই প্রতিষ্ঠানের সামনের দিনগুলো নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী? আপনার অনুপস্থিতিতে কীভাবে চলবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র?

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ: ভেতরে–ভেতরে আমরা একটা পরিচালনাকাঠামো তৈরি করেছি। এখন চেষ্টা করছি তাকে এমন একটা পরিশীলনের মধ্যে আনতে, যাতে আমি না থাকলেও কেন্দ্র তার নিজস্ব গতিতেই এগোতে পারে। এখন এটাই আমার মূল চেষ্টা। মানুষ প্রায়ই আমাকে জিজ্ঞেস করে, আপনার পরে কেন্দ্র চালাবে কে? আমি হেসে উত্তর দিই, কেন, সবাই মিলে চালাবে। গোটা দেশ মিলে চালাবে। শুনে তারা মুখ টিপে হাসে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আমি তো একা বানাইনি। কত মানুষের শ্রম, কাজ, অবদান, ভালোবাসা জড়িয়ে আছে এর সঙ্গে। তাদের কাজকে তো আমি মিথ্যা বানাতে পারব না। আমরা বিদেশি টাকা দিয়ে এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলিনি। আমাদের দেশে এ ধরনের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময় ধরে পরিচালনা করা সোজা নয়। তবু আমরা যখন এত দূর পথ পাড়ি দিতেই পেরেছি, আমি আশা করি, আগামী ৪০ বছরও কেন্দ্র সমানতালে চলবে। মানুষকে আলোকিত করার এ সংগ্রাম শুধু আমাদের নয়, সারা জাতিকেই করতে হবে, যদি একটা সমৃদ্ধ মাতৃভূমি আমরা চাই।

সূত্র : প্রথম আলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Pin It on Pinterest

সংস্করণ