‘রাজ চালাকি’র রাজনীতি থেকে বিরত থাকুন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘রাজ চালাকি’র নির্বাচন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড.কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচনে সরাসরি মানুষ ভোট দেবে, ফলাফল হবে। এটা অন্য কোনও কায়দায় নিলে তা দেশে স্থিতিশীলতা আনে না, বৈধতাও আনে না। এই ধরনের চালাকির অনুষ্ঠান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকলে বলতেন, ‘তোমরা রাজ চালাকি থেকে বিরত থাকো।’ ‘রাজ চালাকি’র কারণেই আমরা রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছি।’’ সবাইকে ‘রাজ চালাকি’র রাজনীতি থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানান তিনি।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় ড. কামাল হোসেন এই মন্তব্য করেন। বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে গণফোরাম।

ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘কোনও সুস্থ মানুষ দেশকে সংকটে ফেলতে পারেন না। কিভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করা যায়, তার জন্য জাতীয় সংলাপ করা হোক। জাতীয় সংলাপের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক সংবিধানের মধ্যে থেকে কীভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন করা যায়।’

গণফোরাম সভাপতি বলেন, ‘আমি সরলভাবে বলেছিলাম, সকাল-সকাল কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিন এবং কেন্দ্র পাহারা দিন। কিন্তু ভোট তো রাতেই হয়ে গেছে। ভারসাম্যহীন ছাড়া কোনও সুস্থ মানুষের পক্ষে তথাকথিত নির্বাচন করা সম্ভব নয়।’

কামাল হোসেন বলেন, ‘সত্যি খুব দুঃখ লাগে। ৩০ ডিসেম্বর যে ঘটনাটা, সেটা স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর এটা দেখতে হচ্ছে। এটা আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। এটা তো হবার কথা না। ৪৮ বছর পরে এটা কেন হবে?’
কামাল হোসেন বলেন, ‘যেভাবে হলো, আমরা কেউ টেরও পেলাম না, যে আমাদের ভোট হয়ে যাচ্ছে। এটা কেন এভাবে করতে হবে? এরকম অস্বাভাবিক কাজ কেন হচ্ছে? এর থেকে ঘোষণা দিয়ে দেন- থার্ড টার্মের জন্য একজন প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেছেন, তিনশ সদস্য সংসদ সদস্য হয়ে গেছেন।’
নির্বাচন খেলা নাকি প্রশ্ন রেখে কামাল হোসেন বলেন, ‘১৭ কোটি মানুষকে নিয়ে কি খেলা করা যায়? রাষ্ট্র নিয়ে এভাবে খেলা করা চলে না। যারা এসব করছেন, তারা না বুঝে করছেন। আমি মনে করি, মানসিকভাবে ভারসাম্য না হারালে কেউ এসব করতে পারে না।’

সভায় জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এক বিষয় নয়। বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা সমর্থক, এটাকে বাদ দিয়ে আরেকটা উপলব্ধি করা যাবে না। তিনিই দেশের স্থপতি।’
৩০ ডিসেম্বর অতি ক্ষমতার লোভে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করে রব বলেন, ‘সারাদেশে নারীদের যেভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে, নোয়াখালীর সুবর্ণচরে করা হয়েছে, মানুষের কণ্ঠ রুদ্ধ, বিবেক ক্ষত-বিক্ষত। পৃথিবীর ইতিহাসে এই ধরনের বর্বর, উলঙ্গ ভোট ডাকাতির নির্বাচন আর কোথাও হয়েছে বলে আমি শুনিনি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যদি দল ও ব্যক্তির ক্ষমতা হয়, সেটা জনগণ চায় না।’
গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘আজকে আওয়ামী লীগ প্রতিদিন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করছে, তার আদর্শকে হত্যা করছে, সংবিধানকে হত্যা করছে। মুখে অনর্গল মিথ্যাচারে মানুষকে প্রতারণা করছে। সর্বশেষ যে নির্বাচন হয়ে গেলো, সেটা নির্বাচন বলবেন না নির্যাতন বলবেন? নাকি ১৭ কোটি মানুষের সঙ্গে প্রতারণা।’

আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদ মোস্তফা মহসীন মন্টু, গণফোরাম নেতা অধ্যাপক আবু সাঈদ, মোকাব্বের খান, আমসাআ আমিন, মফিজুল ইসলাম খান কামাল, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বীর প্রতীক, আসাদুজ্জামান প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Pin It on Pinterest

সংস্করণ