সাহিত্যে বিকল্প নোবেল ও কিছু কথা

প্রতি বছর এ সময়ে নোবেল পুরস্কার নিয়ে সাহিত্যানুরাগীদের মধ্যে একটা উৎসবমুখর উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। তবে এই বছর সে উদ্দীপনায় ভাটা পড়েছে বেশ আগেই। কেননা সুইডিশ একাডেমি গত মে মাসে ঘোষণা দিয়েছে চলতি বছর তারা এই পুরস্কার দেওয়া থেকে বিরত থাকবে। তবে আগামী বছর ২০১৮ ও ২০১৯ সালের পুরস্কার একসঙ্গে দেওয়া হবে। নোবেল জুরি বোর্ডের সদস্য কবি কাতারিনার স্বামী আলোকচিত্রী জ্যঁ ক্লদের যৌন কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মূলত এই অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার পর পদত্যাগ করেন বোর্ডের সভাপতি সারা দানিউস।

একদিকে যখন সাহিত্যে নোবেল নিয়ে এই ঘোলাটে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে আবার ‘নিউ একাডেমি প্রাইজ ফর লিটারেচার’ নামে নোবেলের বিকল্প হিসেবে আরেকটি পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে সুইডেনের ‘নিউ একাডেমি’ নামের আরেকটি সংগঠন। যেখানে সংগঠক হিসেবে মূল ভূমিকায় রয়েছেন আলেকজান্দ্রা পাশকালিদু নামের রোমানিয়ান বংশোদ্ভূত এক সুইডিশ নারী সাংবাদিক। কমিটি যখন এ বছর সাহিত্যে নোবেল দেবে না বলে ঘোষণা দেয়, সাংবাদিক আলেকজান্দ্রার কাছে বিষয়টি খুব অগ্রহণযোগ্য ঠেকে। কমিটির এই সিদ্ধান্তে বেশ মর্মাহত হন তিনি। তার মতে গুটিকয়েক মানুষের নেতিবাচক আচরণে কমিটি পুরস্কার দেওয়া থেকে বিরত থাকবে- এটা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। এই ক্ষোভ থেকেই তিনি তার পরিচিত বলয় থেকে স্বনামধন্য একশ’ জন কবি, লেখক, সাংবাদিক ও অভিনয়শিল্পী নিয়ে গঠন করেন ‘নিউ একাডেমি’ নামে একটি নতুন সংগঠন। ঘোষণা করা হয় ‘নিউ একাডেমি প্রাইজ ফর লিটারেচার’ নামে নতুন এক পুরস্কারের নাম। যার অর্থমূল্য ধরা হয় দশ লাখ ক্রোনার।

অনলাইন ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন করা হয় সংক্ষিপ্ত তালিকা। এই তালিকার প্রধান চার লেখক হলেন জাপানের হারুকি মুরাকামি, ব্রিটিশ লেখক নিল গাইম্যান, কানাডার কিম থুয়ে ও ফ্রান্সের ম্যারিস কোন্ডি। এর মধ্যে প্রথম ও শেষবারের মতো বিকল্প নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হন ম্যারিস কোন্ডি। ‘সেগু’ ও ‘দেসিরাদা’ তার দুটি পাঠকপ্রিয় উপন্যাস। ঔপনিবেশিক সমাজ ব্যবস্থা, সংস্কৃতির বৈষম্যমূলক আগ্রাসন, ভাষার টানাপড়েন ইত্যাদি তার লেখার মূল উপজীব্য।

ম্যারিস কোন্ডির জন্ম ফ্রান্স অধ্যুষিত দক্ষিণ ক্যারিবীয় সাগরের দ্বীপপুঞ্জ গুয়াদেলুপিতে। যা প্রজাপতিসদৃশ দেখতে দুটি দ্বীপ সালি নদী কর্তৃক বিভাজিত। দীর্ঘ সৈকত আর আখক্ষেত দ্বীপের অনেকটা অঞ্চল জুড়ে। কোন্ডির এই পুরস্কার সবার কাছে তার পরিচিতি পৌঁছে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বল্প পরিচিত গুয়াদেলুপিও হয়ে উঠেছে অনেকের কাছে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।

 

সূত্র : সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Pin It on Pinterest

সংস্করণ