‘নারীদের জন্য মিডিয়া অনেক নিরাপদ’

‘আমার কাছে মনে হয়, নারীরাই এজন্য দায়ী। তারা পুরুষদের প্রশ্রয় দেয় বলেই এ রকম সমস্যা সৃষ্টি হয়’— যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে হলিউডের পর বলিউডে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, সে রকমটি আমাদের দেশে ঘটার আশঙ্কা কতটুকু,  এমন প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী প্রসূন আজাদ

সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধের গল্প অবলম্বনে ‘উত্তরণ’ নামের একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন অভিনেত্রী প্রসূন আজাদ। আরিফ রাসেলের পরিচালনায় চাঁদপুরে ছবিটির শুটিং শুরু হবে নভেম্বরে। এ ছবির চরিত্রে নিজেকে শতভাগ মানিয়ে নিতে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছেন প্রসূন। এ বিষয়ে কথোপকথনের ফাঁকে এ অভিনেত্রীর কাছে বলিউডে চলমান হ্যাশট্যাগ মি টু আন্দোলন নিয়ে জানতে চাওয়া হয়। প্রসূন উত্তর দিলেন অনেকটা অকপটে—

বেশ কিছুদিন পর নতুন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে নাম লেখালেন। নিয়ে বলুন?

আরিফ রাসেল নামের একজন নির্মাতা মুক্তিযুদ্ধের ওপর একটি চলচ্চিত্র বানাচ্ছেন। চলচ্চিত্রটির নাম ‘উত্তরণ’। নভেম্বর থেকে চাঁদপুরে এর শুটিং শুরু হবে।

ছবির গল্প আপনার চরিত্র

আমাদের দেশের বেশির ভাগ ছবির গল্প পুরুষকেন্দ্রিক। এখানে নারীদের প্রাধান্য কম থাকে। কিন্তু এ গল্পটা নারীদের প্রাধান্য দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। সেদিক থেকে বলব, এ গল্পটা দুর্দান্ত। আর আমি যে চরিত্রে অভিনয় করব, সে চরিত্র মুক্তিযুদ্ধের সময় নারী যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেয়। এছাড়া কাহিনীর শেষ দিকে দারুণ এক টুইস্ট আছে। এজন্যই মূলত এতে নাম লেখানো।

নিজের চরিত্রের জন্য প্রস্তুতি কীভাবে নিচ্ছেন?

এ ছবিতে আমার চরিত্রটি বোধহয় একটু হালকা-পাতলা গড়নের। এজন্য নির্মাতা আমাকে কম খেতে বলেছেন। তার কথা রাখতে গিয়ে ডায়েট করার চেষ্টা করছি।

টেলিভিশন চ্যানেলে নতুন কোনো অনুষ্ঠান করছেন না?

না করছি না। তবে নতুন একটা ভ্রমণ-বিষয়ক অনুষ্ঠানের জন্য কথাবার্তা চলছে। যদিও এখনো চূড়ান্ত হয়নি এ নিয়ে।

আর নাটক?

সত্যি বলতে কী, নাটকের জন্য যেসব গল্প পাই, তাতে আগ্রহ পাই না। আর যাতে আগ্রহ পাই, তা নানা কারণে করা হয়ে ওঠে না।

একটু পুরনো প্রসঙ্গে যেতে চাই, অনেক দিন আগে অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ডিরেক্টরস গিল্ড আপনাকে অভিনয় থেকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল।

আমি ঠিক করেছি, যখন থেকে টেলিভিশনে নিয়মিত কাজ শুরু করব, তখন অভিনেতা সংঘের সদস্য হব। এটা আমার ব্যক্তিগত ইচ্ছা। আমি এও চাই, নাটকে অভিনয়ের জন্য কাগজপত্র থাকবে, যেখানে একটি কাজে যুক্ত হওয়ার ব্যাপারে প্রযোজক, নির্মাতা ও অভিনেতার স্বাক্ষর থাকবে। আসলে আমাদের এখানে কোনো নিয়মনীতি গড়ে ওঠেনি এখনো। তাই কাজ করতেও আগ্রহ পাই না। করলেও ভুল বোঝাবুঝি হয়।

আপনি কি মনে করেন, ধরনের সংগঠনে যোগ দিলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে?

মানুষ সংগঠন করে এজন্যই, সে নিরাপদে, ঝামেলা মুক্ত হয়ে কাজ করবে, এ নিশ্চয়তায়। আমার মনে হয়, সংগঠনের নীতিমালা মেনে চললে সবই ঠিকঠাক থাকে।

এবার আসা যাক, হ্যাশট্যাগ মি টু আন্দোলন প্রসঙ্গে। হলিউডের পর সম্প্রতি বলিউডে আন্দোলন শুরু হয়েছে। ঢালিউডে তথা আমাদের এখানে রকমটি ঘটার আশঙ্কা কতটুকু বলে মনে করেন?

এ রকম ঘটার আশঙ্কা কতটুকু, তা বলতে পারব না। তবে আমার কাছে মনে হয়, নারীরাই এজন্য দায়ী। তারা পুরুষ সহকর্মীদের প্রশ্রয় দেয় বলেই এ রকম সমস্যার তৈরি হয়। নারীরাই অলিখিত ও অঘোষিত এ নিয়ম তৈরি করেছে। যে কারণে মাঝে মধ্যেই এ রকম শোনা যায়। আমার মনে হয়, ছেলেদের এক্ষেত্রে কোনো দোষ নেই। কারণ আমার অভিজ্ঞতা বলে, নারীদের জন্য মিডিয়া অনেক নিরাপদ।

এর কারণ?

এখানে জোর করে কিছু হয় না।

তাহলে নারী শিল্পীরা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলছে কেন?

স্বার্থ ছাড়া কেউই কিছু করে না। স্বার্থ আছে বলেই হয়তো তারা এসব বলে।

 

সূত্র : বণিক বার্তা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Pin It on Pinterest

সংস্করণ