কোমর-পিঠ ব্যথায় কার্যকর ব্যায়াম

কোমর ও পিঠে ব্যথার সমস্যা খুব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই দুই ধরনের ব্যথা উৎপন্ন হতে পারে মেরুদণ্ড এবং সহায়তাকারী মাংসপেশিগুলো থেকে। আবার শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ, যেগুলোর স্নায়ু পিঠে বিস্তৃত, সেখান থেকেও পিঠ ব্যথা হতে পারে। শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ায় পিঠের নিচের অংশে ব্যথা হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে এ সমস্যা হতে পারে। তাই দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা যাবে না। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ানোর প্রয়োজন হলে একটি পা প্ল্যাটফর্মের ওপরে কিংবা টুলের ওপরে রেখে দাঁড়াতে হবে।

চেয়ারে বসে কাজ করার সময় কিংবা চেয়ারে বসে থাকার সময় চেয়ারটি আপনার পিঠকে ঠিকমতো সাপোর্ট দিতে না পারলে চেয়ার ও পিঠের মাঝখানের ফাঁকা জায়গা পূরণে কুশন ব্যবহার করুন। ঘুমানোর সময় কিছু সতর্কতা অবলম্বন করুন। শক্ত তোষক বা জাজিমের ওপর ঘুমান। মুখ নিচের দিকে রেখে ঘুমাবেন না। চিৎ হয়ে ঘুমান। পাশ ফিরে ঘুমাতে চাইলে সেই পাশে একটি হাঁটু সমান্য বাঁকা করে ঘুমাবেন।

কোমর ও পিঠ ব্যথা প্রতিরোধে পেট ও পিঠের মাংসপেশিকে সবল রাখতে নিয়মিত কিছু ব্যায়াম করতে হবে। এসব ব্যায়ামের প্রতিটি ১০ বার করতে হবে। মাংসপেশির সবলতা বাড়লে ব্যায়ামের পরিমাণ বাড়ানো যাবে। কোনো ব্যায়ামে ব্যথা হলে তা বন্ধ রাখতে হবে।

হাঁটু বাঁকা করে চিৎ হয়ে শুতে হবে। পেটের মাংসপেশিগুলো সংকুচিত করে পিঠকে মেঝের বিপরীতে চাপ দিতে হবে। মনে মনে পাঁচ পর্যন্ত গুনে এরপর শিথিল করতে হবে।

হাঁটু বাঁকা করে চিৎ হয়ে শুতে হবে। যতদূর পারা যায় মাথা ও কাঁধ ওপরের দিকে তুলতে হবে। মনে মনে পাঁচ পর্যন্ত গুনে এরপর শিথিল করতে হবে।

উপুড় হয়ে শুতে হবে। ডান পা সোজা রেখে যতদূর সম্ভব ওপরে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে, এ সময় হাঁটু কিছুতেই ভাঁজ করা যাবে না। এরপর ধীরে ধীরে পা নামাতে হবে। একইভাবে বাঁ পা ওপরে তুলতে হবে। প্রতি পায়ের জন্য পাঁচবার করতে হবে।

কারও একবার পিঠ ব্যথা হলে ব্যথা সেরে যাওয়ার পর আবার যাতে এ ধরনের ব্যথা না হতে পারে, সেই লক্ষ্যে ব্যথা প্রতিরোধেও এসব ব্যায়াম করা যেতে পারে। সর্বোপরি এ ধরনের সমস্যা আক্রান্ত হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন ও ব্যায়াম করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Pin It on Pinterest

সংস্করণ