ক্ষতের ওপর ক্ষত

সম্প্রতি নেত্রকোনা ও নীলফামারীতে প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। ঘৃণ্য, নিন্দনীয় এ ধরনের ঘটনা এ যাবৎ কম ঘটেনি। এর প্রতিবাদ জানানোর ভাষাও নেই। নীলফামারীর ডিমলায় ভাংচুরের পাশাপাশি মন্দিরে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। বিষয়গুলো অস্বস্তির এবং উদ্বেগের তো বটেই। তবে পত্রিকান্তরে প্রকাশিত সংবাদে জেনেছি, উভয় ক্ষেত্রেই স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন পদক্ষেপ নিয়েছে। এটি আপাতত স্বস্তির সংবাদ। কিন্তু দৃষ্টান্তযোগ্য প্রতিকার কতটা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, তা কেবল ভবিষ্যৎই বলতে পারবে। এমন পদক্ষেপে ভুক্তভোগীদের আপাতত সাহস কিংবা ভরসা জোগালেও তারা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিরুদ্বিগ্ন থাকতে পারবে কি-না এটি প্রশ্নের বিষয়। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা এসব ব্যাপারে প্রীতিকর নয়। নেত্রকোনা পৌর শহরের পশ্চিম এলাকার শ্মশানঘাটে কালিমন্দিরে চারটি প্রতিমা ভাংচুরের সংবাদ জানলাম পত্রিকার খবরে। এ রকম ঘটনা যেসব দুর্বৃত্ত ঘটায়, তাদের নিশ্চয় খুঁটির জোর থাকে। এর পেছনে থাকে নানারকম হীনস্বার্থ চরিতার্থকরণের উদ্দেশ্যও।

পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে যেটুকু জেনেছি তা হলো, ডিমলায় দুর্বৃত্তদের মূল উদ্দেশ্য ছিল একজন বিধবার ভিটেবাড়ি দখল। দুর্বৃত্তরা তার বসতবাড়ি দখলের উদ্দেশ্যে হামলা চালায়, গাছপালা কাটতে থাকে। বাধা দিতে গেলে বিধবার ছেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করে এবং পারিবারিক পূজামণ্ডপে ভাংচুর চালানোর পাশাপাশি আগুন দেয়। ভিটেমাটি দখলের উদ্দেশ্যে মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাংচুর ও সংখ্যালঘুদের হয়রানির ঘটনা নতুন নয় এবং এরই ধারাবাহিকতায় নেত্রকোনা ও নীলফামারীতে ঘটনা ঘটেছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশে। এখানে শত শত বছর ধরে নানা ধর্মের ও জাতিসত্তার মানুষ সহাবস্থান করে এলেও তাতে চিড় ধরানোর অপচেষ্টা স্বাধীন-সার্বভৌম, রক্তস্নাত বাংলাদেশে এ যাবৎ কম ঘটেনি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাতাবরণ ধ্বংসের অপচেষ্টায় এই হিংসাশ্রয়ীরা সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। প্রশ্ন উঠতেই পারে, এসব ঘটনার পেছনে আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মনস্তাত্ত্বিক কারণটা কী?

আমাদের মনে আছে রামু, নাসিরনগর, সাঁথিয়া, রংপুরের গঙ্গাচড়ার ঘটনা। গত নভেম্বরের ১০ তারিখ যখন রংপুরের গঙ্গাচড়ার ঠাকুরপাড়া গ্রামে সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর ওপর সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছিল, তখন মনে পড়েছিল রামু ও নাসিরনগরের বর্বরোচিত ঘটনাবলির কথা। ফেসবুকে ‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগ তুলে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা আমাদের সামনে অনেক নৃশংসতার চিত্রই তুলে ধরে। নেত্রকোনা ও নীলফামারীর ঘটনার জন্য যারা দায়ী, তাদের উৎস খুঁজে দৃষ্টান্তযোগ্য প্রতিকার বরাবরের মতোই প্রত্যাশা করি; কিন্তু একই সঙ্গে হতাশার ছায়াও দেখি। নেত্রকোনা ও নীলফামারীতে রামু, নাসিরনগর, গঙ্গাচড়ার মতোই মানবতা পুড়েছে, এটাই হলো সত্য। বিদ্যমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই আশঙ্কা অমূলক নয় যে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টার মতো ঘটনা আরও ঘটতে পারে। এমন আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এখনই অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে কাজে লাগিয়েছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ। সচেতন মানুষ মাত্রেরই প্রেক্ষাপট জানা আছে। পাকিস্তান আন্দোলন ছিল সাম্প্রদায়িক ও প্রতিক্রিয়াশীল। ওই ইতিহাসও সচেতন মানুষ জানেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কীভাবে আবার সাম্প্রদায়িকতা বিস্তার লাভ করল, সেটাই দেখার বিষয়। ১৯৭২ সালে মুক্তিযুদ্ধোত্তর নতুন পরিবেশ-পরিস্থিতিতে যে সংবিধান রচিত হয়েছিল, তাতে ধর্মনিরপেক্ষতা অন্যতম রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে ঘোষিত হয়েছিল। নিষিদ্ধ হয়েছিল ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৎকালীন শাসকরা আপস করলেন পাকিস্তানি ভাবাদর্শের সঙ্গে। ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো ফিরে পেল রাজনীতি করার অধিকার এবং তাদের প্রতিনিধিরা তৎকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায়ও স্থান পেলেন। এভাবেই তো সাম্প্রদায়িক শক্তি এ দেশে পুনরুজ্জীবিত হলো এবং সাম্প্রদায়িকতা বিস্তার লাভ করতে শুরু করল।

রামু, সাঁথিয়া, নাসিরনগর, নেত্রকোনা, নীলফামারীর মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করার অঙ্গীকার-প্রতিশ্রুতির কোনো ঘাটতি নেই; কিন্তু বাস্তবতা হলো এ জন্য যে, রাজনৈতিক ঐকমত্য দরকার, দৃঢ়তা প্রয়োজন- এর যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর রামশীল, লালমোহনসহ অন্যান্য জায়গায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজনের ওপর যে নির্যাতন করা হয়েছিল, দেশের শুভবোধসম্পন্ন মানুষরা ওই বর্বরতার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। সরকার একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করে দিয়েছিল। যতদূর জানি, কমিটি একপ্রস্ত সুপারিশও তৈরি করে দিয়েছিল। কিন্তু সেই সুপারিশমালার ভিত্তিতে কাজের কাজ কতটা কী হয়েছে, এ নিয়ে প্রশ্ন আছে। বাস্তবতা হলো, কথা হয়েছে অনেক, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কাজ হয়নি। কিছু ধরপাকড় ও কয়েকজন অপরাধীর জেল-জরিমানা হয়েছে বটে; কিন্তু বেশিরভাগ অপরাধীই তো থেকে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এ ধরনের অপরাধের ত্বরিত বিচার করা না গেলে আমাদের কাঙ্ক্ষিত সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ব কীভাবে!

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পরিচিতিতে যারা বারবার কলঙ্কলেপনে বিভিন্ন অজুহাতে তৎপর হয়ে ওঠে, তারা দেশ-জাতির গুরুতর শত্রু। গঙ্গাচড়ার ঘটনা যেমন হঠাৎ করে ঘটেনি, তেমনি নেত্রকোনা ও নীলফামারীতেও ঘটনা হঠাৎ করেই ঘটেনি। যেহেতু ঘরবাড়ি দখলই ছিল উদ্দেশ্য, সেহেতু এর প্রস্তুতি চলছিল আগে থেকেই। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, রামু ও নাসিরনগরের ক্ষত এখনও শুকায়নি। নেত্রকোনা ও নীলফামারীর ক্ষতও শুকাবে না, যদি বিদ্বেষ স্বার্থান্বেষী, হিংসাশ্রয়ীদের শিকড়-বাকড় সমূলে উৎপাটন করা না যায়। এ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর যদি ত্বরিত দৃষ্টান্তযোগ্য প্রতিকার নিশ্চিত হতো, তাহলে এসবের পুনরাবৃত্তির পথ সংকুচিত হতো। যারা নানা অজুহাতে কিংবা কারও হীন চক্রান্তের কারণে বারবার আক্রান্ত হচ্ছে, সর্বস্ব হারাচ্ছে, ক্ষতের ওপর ক্ষত সৃষ্টি হচ্ছে, তাদের প্রতি রাষ্ট্রশক্তিকে আরও কর্তব্যপরায়ণ হতে হবে। ক্ষত উপশমের স্থায়ী দাওয়াই প্রয়োগে ব্যর্থতার খেসারত যাতে সাধারণ মানুষকে দিতে না হয়, তা নিশ্চিত করতেই হবে।

আমাদের অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে আমলে রাখতে হবে যে, গণতান্ত্রিক সংবিধান রচনা করেই রাষ্ট্রকে গণতান্ত্রিক করা যায় না। রাষ্ট্র কীভাবে চলবে তা শেষ পর্যন্ত স্থির হয়ে যায় সমাজের প্রকৃতি ও বিন্যাস দিয়েই। উল্লেখ্য, ভারতের সংবিধান গণতান্ত্রিক এবং ধর্মনিরপেক্ষও বটে। তবুও সেখানে বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনা ঘটেছিল। সংবিধান মাফিক সেক্যুলার রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও চরম সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ড ভারত ঠেকাতে পারেনি। তবে এটা ঠিক যে, সংবিধান যতদিন গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ থাকবে, ততদিন ধর্মনিরপেক্ষ সমাজের পক্ষের শক্তির একটা আলাদা জোর থাকবে। সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষ না হলে এই জোরটা পাওয়া সহজ নয়। বাবরি মসজিদ ভাঙার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর বাংলাদেশে পৌঁছতে না পৌঁছতেই এ দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যে হামলা হয়েছিল, সেই কলঙ্কের দাগ আমরা আমাদের দেশের ইতিহাস থেকে কোনো দিন মুছে ফেলতে পারব না। সংবিধানের কথা থাক, অত্যন্ত সাদামাটা যুক্তিতেও ওই ঘটনা ঘটার পক্ষে কোনো অজুহাত খাড়া করা যাবে না। বিভিন্ন দেশের মৌলবাদী শক্তি একই কাজ করে। বস্তুত পৃথিবীর সব মৌলবাদী শক্তি এক এবং অভিন্ন। আমাদের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা মৌলিক নীতি হিসেবে কিছুকাল ছিল, এখন নেই। কাজেই ভিন্নধর্মাবলম্বী কিংবা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যে লুণ্ঠন ও তৎসঙ্গে বর্বরোচিত তাণ্ডব চালানো হয়, এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করার সময়েও সাংবিধানিকভাবে জোরদার অভিযোগ তোলা যায় না।

প্রকৃতই যদি রাষ্ট্র সেক্যুলার হয়, তাহলে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ আরও বেশি জোরালো হতে বাধ্য। গণতন্ত্র অবশ্য আমাদের সংবিধানে মৌলিক নীতি হিসেবে আছে। সে জন্য গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘনের কথা বলা যায়। শুধু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ হওয়ার কারণেই একজন নাগরিক সর্বস্ব হারাবে; কিন্তু এই সুনির্দিষ্ট অত্যাচারের কোনো প্রতিকার সাংবিধানিকভাবে হবে না, এমনটি অনাকাঙ্ক্ষিত। এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, আমাদের দেশে গণতন্ত্রের সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার সহাবস্থান রয়েছে। আমরা তো জানি এবং প্রতিনিয়ত প্রমাণও পাচ্ছি যে, প্রচণ্ড বর্ণবৈষম্য এবং সেই কারণে দারিদ্র্য, কর্মহীনতা, দেশকে পঙ্গু করে দেওয়া, বেকারত্ব ইত্যাদি সবই গণতন্ত্রের সঙ্গে গলায় গলায় মিশে সহাবস্থান করছে। সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা থাকুক আর না থাকুক, আমাদের সমাজ যদি প্রকৃতই সুস্থ ও গণতান্ত্রিক হতো তাহলে রামু, নাসিরনগর ও ঠাকুরপাড়া, নেত্রকোনা, নীলফামারীর মতো ঘটনা অশুভ শক্তি ঘটাতে পারত না। আর তারা যে সেটা ঘটাতে পেরেছে তার একটা কারণ, আমাদের এই বিকার হওয়া অসুস্থ সমাজ তো বটেই; অতিরিক্ত কারণ হচ্ছে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রশ্রয় পাওয়ার প্রত্যাশা। কারণ রাষ্ট্র তো ধর্মনিরপেক্ষ নয়। আবারও বলি, ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর কী ঘটেছিল তাও সচেতন মানুষ মাত্রেরই জানা। সে জন্য গণতন্ত্রের নীতি যে দুই-চার-দশ গজ যেতে পারত, তার বাইরে শত শত মাইল বিস্তীর্ণ বাংলাদেশে অশুভ শক্তিকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পেছনে লেলিয়ে দেওয়া সহজেই সম্ভব।

সংবিধানের এই ফাঁকটাকে অবলম্বন করে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তি নিজেকে বাড়াবার এবং অসম সমাজ ব্যবস্থার শিকার সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ও সমাজবিরোধী মস্তান শক্তি এবং বিপথগামী যুব সম্প্রদায়কে অপশক্তির সঙ্গে জুড়ে দিতে বাড়তি বল পেয়ে যাচ্ছে। অন্তত সংবিধানে যদি ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি থাকত, তাহলে এই বাড়তি জোর আসার উৎস থাকত না। তারপর গোদের উপর বিষফোঁড়া হচ্ছে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে সংবিধানে সংযোজিত করা। যারা এটা করলেন তারা ইসলামের ইতিহাসই ভুলে গেছেন। নেত্রকোনা, রংপুরের ঠাকুরপাড়া, চট্টগ্রামের রামু কিংবা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপট বিশ্নেষণ করে সেই নিরিখে আমাদের ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। এই জরুরি কাজটি করতে হবে নির্মোহ অবস্থান থেকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে।

ক্ষমতা থাকে, আবার থাকে না। এই আসে, এই যায়। কিন্তু দেশ থাকে। বুক ফাটিয়ে চিৎকার করে এই কথা অবশ্য বলার বিষয় যে- দেশ থাকে। ক্ষমতায় বসা তুচ্ছ। মানুষকে মুক্তি দেওয়া, সমাজকে মুক্তি দেওয়া, বুদ্ধি-বিবেচনা, বিচারশক্তি পরিচালনার সুযোগ দেওয়া যখন ক্ষমতায় বসার উদ্দেশ্য হয়, তখনই ক্ষমতা ব্যবহারের একটা অর্থ দাঁড়ায়। বাংলাদেশে তা কবে ঘটবে? জয় হোক মানবতার। সভ্যতার বড়াই করার ভিত যেন দুর্বল না হয়, তা নিশ্চিত করা সচেতন ও দায়িত্বশীল সবার কর্তব্য।

লেখক: হাসান আজিজুল হক,কথাসাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ

 

 

 

সূত্র: সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Pin It on Pinterest

সংস্করণ